ভালবেসে খুব

-এই।
-হুম।
-চলো না।
-উহু,জ্বর আসবে।
-একটু ভিজলে কিছুই হবে না।
-না,একটুতেই জ্বর বেশী আসে।

আমার কথায় অতশী আর কিছু বললো না।চুপ করেই রইলো।জানি মেয়েটা এখন মুখ গোমড়া করে বেলকুনিতে গিয়ে দাঁড়াবে।আর হাত বাড়িয়ে বৃষ্টির পানি ছোয়ার চেষ্টা করবে। আজ বেশ সকাল থেকেই আকাশ অন্ধকার হয়ে বৃষ্টি শুরু হয়েছে।আর এদিকে অতশীও বায়না ধরেছে বৃষ্টিতে ভিজবে।ভেবেছিলাম আজ ঘুমটা বেশ ভালই হবে কিন্তু অতশীর ডাকে আর ঘুমাতে পারলাম না। মেয়েটা বৃষ্টি দেখলেই ভিজবে।এইতো তিন চারদিন আগের কথা।

রাত প্রায় বারোটা। বাইরে মেঘ গর্জনের সাথে সাথে ইলেক্ট্রিসিটি ও চলে গেলো। এদিকে অতশী ভয়ে আমাকে বেশ শক্ত করেই জড়িয়ে ধরলো।কিন্তু কিছুক্ষন পর যখন আকাশে মেঘ গর্জনের চেয়ে বৃষ্টিটাই বেশী হচ্ছিলো তখনি মেয়েটা হুট করেই উঠে দাঁড়ালো। শুধু দাঁড়ালো না,আমাকেও টেনে তুললো। অতশীর হঠাৎ এরকম আচরনে বেশ অবাকই হলাম।যে মেয়েটা ভয়ে এতক্ষন কুকড়ে ছিল,সেই মেয়েটাই এখন উঠে দাড়িয়েছে।আমি অতশীকে যখনি কিছু বলতে যাব তখনি মেয়েটা আমার হাত ধরে বললো,

-এই চলো না বৃষ্টিতে ভিজি।

অতশীর কথায় আমি কিছুক্ষন ওর দিকে তাকিয়ে রইলাম।আসলে অন্ধকারে ওর মুখটা খুব একটা দেখাও যাচ্ছে না।তবে বিদ্যুৎ চমকানোর সময় ওর মুখটা স্পষ্টই দেখতে পেলাম।বেশ স্বাভাবিক। আমার চুপ থাকা দেখে অতশী আবারও বললো,

-চলো না।
-কোথায়?
-ভিজবো।
-মাথা ঠিক আছে।এত রাতে কেও বৃষ্টিতে ভেজে।
-আমি ভিজবো।

অতশীর এরকম এক রোখা টাইপের কথায় আমি কান দিলাম না।মেয়েটা কোলে নিয়ে বিছানায় শুয়িয়ে দিয়ে বেশ শক্ত করেই জড়িয়ে ধরে রইলাম।যাও এবার দেখি,কেমনে যাও। সেদিন অতশীকে এভাবে দমিয়ে রাখলেও মেয়েটা আজ বেশ রেগে গেছে।আমি বেলকুনির দিকে তাকাতেই দেখি মেয়েটা গ্রিল ধরে দাঁড়িয়ে আছে।চোখটা ঠিক সামনের বিল্ডিং এর ছাদের দিকে।বেশ কয়েকটা বাচ্চা ভিজছে। এই আজকে খিচুড়ি, মাংস রান্না কইরো। আমার কথায় অতশী কিছু বললো না।ঠিক আগের মতই গ্রিল ধরে দাঁড়িয়ে রইলো।আমি এবার একটু জোরেই বললাম,

-আজ খিচুড়ি, মাংস হলে বেশ ভাল হতো। আমার কথায় অতশী এবার কান্না জড়িত কণ্ঠে বললো,
-এসব খেলে গ্যাস হবে,পেট জ্বালাপোড়া করে তোমার।খেতে হবে না। অতশীর কথায় কি বলবো ভেবে পেলাম না। তবে ও যেটা বোঝাতে চেয়েছে সেটা খুব ভালভাবেই বুঝে গেছি।আমি অতশীকে বললাম,

-গ্যাস হলে ওষুধ খেয়ে নেবো।
-গ্যাসের যেমন ওষুধ আছে ঠিক সব অসুখের ই ওষুধ আছে।
-আমার জ্বর ওষুধে কাজ হয় না,ইনজেকশন দিতে হয়।
-দিলে সমস্যা কি?
-সুইয়ে ভয় লাগে।
-আমি পাশে থেকে ধরে রাখলেও ভয় লাগবে?

অতশীর এমন কথায় আমি আর কিছু বললাম না।এইটা বউ না অন্যকিছু।ইনজেকশন দেবে,তবুও ভিজতে হবে।আমি আর কিছু না ভেবে অতশীর পাশে গিয়ে দাড়ালাম।মেয়েটা গাল বেয়ে বৃষ্টির মতই পানি পড়ছে। আমি অতশীকে কিছু বলতে না দিয়ে কোলে তুলে নিলাম।বউটার চোখের পানি একদম সহ্য হয় না।ওর হাসি মুখ দেখে আমি সারাজিবন জ্বরে ভুগতে রাজি আছি। এভাবে কোলেই ভিজবা?

-কেন, তোমার কষ্ট হচ্ছে?
-উঁহু, সবসময় এভাবেই কোলে রাখতে পারবো।
-অনেক হইছে,এবার নামাও।

অতশীর কথায় আমি ওকে নামিয়ে দিলাম। মেয়েটা প্রায় ছাদের মাঝখানে গিয়ে দাঁড়ালো। অতশীর খুশি দেখে নিজের ভেতরটা কেমন যেন শান্তিতে ভরে গেলো।আমি অতশীর দিকে এগিয়ে গিয়ে ওকে পেছন থেকে জড়িয়ে ধরে বললাম,

-আজকের রেসিপি তো চেঞ্জ হয়ে গেলো।
-কেন?খিচুড়ি, মাংস?
-হবে না,আজকে ওইটা হবে।
-কোনটা?
-যেটা তুমি আমাকে প্রথম রান্না করে খায়িয়েছিলে। আমার কথায় অতশী কিছুক্ষন চুপ থেকে মুচকি হেসে বললো,
-বললেই তো হয় বিরিয়ানি খাবা।এভাবে পেচানোর কি আছে।
-পছন্দের জিনিস একটু পেচিয়ে বলতেই ভাল্লাগে।
-হুম খাওয়াতে পারি,তবে আমাকে কোলে নিয়ে ঠিক যেভাবে ছাদে এসেছো ঠিক সেভাবেই নিয়ে যেতে হবে।
-অবশ্যই।

আমি আর দেড়ি করলাম না।অতশীকে কোলে তুলে নিলাম।যত তাড়াতাড়ি নিচে যাব তত তাড়াতাড়ি বিরিয়ানি পাবো।ভাবতেই কেমন যেন খেতে ইচ্ছে করছে। আমি আর দাড়ালাম না,অতশীকে নিয়ে নিচের দিকে রওনা দিলাম।একটা ভালবাসা কোলে নিয়ে যাচ্ছি আরেকটা ভালবাসার কাছে। ভালবাসাময় জীবন।উহু বিরিয়ানিময় জীবন। অতশীময় জীবন।

Leave a Comment

Please wait...

Subscribe to Our Newsletter

Want to be notified when our article is published? Enter your email address and name below to be the first to know.