বজ্জাত বস, রোমান্টিক হাজবেন্ড !

মামনিঃ তিথি আজকে প্লিজ এমন কিছু করিস না যাতে বাসায় আজকে ও বিচার আসে..
তিথিঃ মামনি তুমি কি বলতে চাও আমি সব সময় দুষ্টুমি করি
মামনিঃ হয়ছে র ন্যাকা কান্না করতে হবে না..তুই যে কত দুষ্টু তা আমি ভালো জানি ওই মহিলাকে কালো মোটা না বললে হয় না বলেছিস তো বলেছিস উল্টো উনার গায়ে ডিম মেরে দিয়েছিস
তিথিঃ তুমি বলো মামনি আমি কি করতাম ওই মুটকি আমার বিয়ে দিতে এসেছে তার ওই গন্ডার ছেলের সাথে তাই হাতে যা ছিল তা মেরে দিয়েছি ভাগিস হাতে ডিম ছিল মামনি জানো মুখ টা দেখার মতো ছিল
মামনিঃ তুমি ওকে কিছু বলবে না
মামাঃ কেন কিছু বলবো আমার মাকে ও তো ঠিক করেছে আচ্ছা তিথি মা তুই ডিম গুলো পাইলি কই
তিথিঃ মামা আমি না ডিম গুলো ফ্রিজ থেকে নিয়েছি
মামনিঃ কি তুই ফ্রিজের ডিম শেষ করে দিলি..হায় আল্লাহ এই মেয়েকে নিয়ে র পারি না
তিথিঃ আচ্ছা মামা আমি যাই আমার দেরি হয়ে যাচ্ছে না হলে আজকে মামনি আমার ১৩ টা বাজাবে বাই
মামাঃ সাবধানে যাবি..
মামনিঃ এই মেয়ে এত ফাজিল উফফফ..আজকে আরো আবির আসবে যে রাগি ছেলে এই মেয়ের ফাজলামি দেখে কি যে করবে
তিথিঃ উফফ আজকে যদি দেরি হয় না তাহলে কি যে হবে??আজকে নাকি আরো নতুন বস আসবে..
তিথি রাস্তায় এসে দেখে একটা রিকশা আছে তাড়াতাড়ি গিয়ে রিকশা দাঁড় করায়
তিথিঃ চাচা তাড়াতাড়ি চলো
রিকশাওয়ালাঃ আমি যামু না
তিথিঃ চাচা প্লিজ চলো আমার দেরি হয়ে যাচ্ছে প্লিজ চাচা
তিথি অনেক বলায় রিকশাওয়ালা যেতে রাজি হয়….
তিথিঃ উফফফফ সরি সরি বলতে ভুলে গেছি আমি ইসরাত জাহান তিথি..এত সময় যে মামা মামনির সাথে কথা বলে ছিলাম ওরা আমার আসল মামা- মামনি নয়..কিন্তু ওরা ছাড়া আমার র কেউ ও নাই..
তিথির রিকশার সাথে একটা বড় কার এর এক্সিডেন্ট হয়ে যায়..তিথি রিকশা থেকে পরে যায়..তিথির হাতে অনেক টা ব্যাথা পায়…তিথি উঠে দেখে একটা ছেলে গাড়ি থেকে নেমে তিথি তার সামনে গিয়ে দেয় এক থাপ্পড়
তিথিঃ ঠাসসসসসসস ওই বদমাশ রাস্তা কি তোর বাপের
অচেনা ছেলেঃ হাউ ডের ইউ

তিথিঃ বেটা বজ্জাত তোর চোখ কি পকেটে নিয়ে রাকিস না বউয়ের কাছে রেখে এসেছিস
অচেনা ছেলেঃ তোমার সাহস হয় কি করে আমার সাথে এই ভাবে কথা বলার র আমাকে থাপ্পড় দাওয়ার
তিথির হাত চেপে ধরে..তিথি তো এত রেগে গেছে যে ছেলেটির হাতে দেয় এক কামড়
অচেনা ছেলেঃ আয়ায়ায়ায়ায়া
তিথিরঃ তোর সাহস হয় কি করে আমার হাত চেপে ধরার…
অচেনা ছেলেটির হাত টা ছুঁড়ে মারে রিকশাওয়ালা কে তুলে জিজ্ঞেস করে
তিথিঃ চাচা আপনি ঠিক আছেন??
রিকশাওয়ালাঃ হ্যাঁ মা ঠিক আছি
তিথি ছেলেটির কাছে গিয়ে বলে।
তিথিঃ আপনার মানিব্যাগটা দেন
অচেনা ছেলেঃ হোয়াট??
তিথিঃ কানে কি কম শুনিস মি…এনাকন্ডা
অচেনা ছেলেঃ কি বললে আমি কি??
তিথিঃ এনাকন্ডা শুধু নয়,তুই তো খান্ডাস বিড়াল,কালো ইঁদুর,লম্বা জিরাফ,বড গাছে থাকা শাতঁচুন্নি আরো আছে মাথায় আসছে না এখন
অচেনা ছেলেঃতুমি জানো না তুমি কার সাথে কথা বলছ
তিথি ছেলেটি হাত থেকে মানিব্যাগটা নিয়েকিছু টাকা বের করে রিকশাওয়ালকে দেয় র মানিব্যাগটা ছেলেটির হাতে দিয়ে বলে
তিথিঃ মি.. বজ্জাত তুই ও জানিস না আমি কে
অচেনা ছেলেঃ কে তুমি??
তিথিঃ কেন বলবো??

তিথি চলে যায়. ছেলেটি তো রেগে লাল হয়ে আছে তার তো খুব ইচ্ছে করছে তিথিকে মাথার উপর থেকে আচার মারতে…এই ভাবে তার সাথে কেউ কথা বলার সাহস পায়নি র এই মেয়েটা তার সাথে এমন বাজে ব্যবহার করলো
অচেনা ছেলেঃ এই বেয়াদব মেয়েকে যদি র এক বার পাই তাহলে বোজাব আবির রহমান এর সাথে বেয়াদবি করার মজা..
তিথি অফিসে আসে র দেখে চারপাশে অনেক সুন্দর করে সাজানো হয়েছে..
রাফিঃ কি রে কই ছিলি এত সময়
তিথিঃ আর বলিস না একটা বেয়াদব,এনাকন্ডা,বজ্জাত ছেলের জন্য আজকে আমার এক্সিডেন্ট হয়েছে
রাফিঃ ব্যাথা পেয়েছিস
তিথিঃ ধুর না..হালকা পেয়েছি যদি সামনে পাই আবার তাহলে আমি ওকে খুন করবো
রিতুঃ তোরা এত বকবক না করে ফুল হাতে নিয়ে দাঁড়া স্যার চলে আসবে
তিথিঃ তার মানে স্যার এখনো আসে নাই..উফফ বাবা বাঁচলাম..
রিতুঃ না আসে নাই
তিথিঃ আচ্ছা স্যার এর নাম কি??
রিতুঃ কি তুই স্যার এর নাম জানিস না..
তিথিঃ জানলে কি র তোর থেকে জিজ্ঞেস করতাম শাঁতচুন্নি
রিতুঃ তুই আমাকে শাঁতচুন্নি বলেছিস দেখিস এই স্যার তোর ১২ টা বাজাবে. তুই তো স্যার এর পিএ আরো
তিথিঃ পিএ হলে ১২ টা বাজাবে তোকে কে বলছে দেখ উল্টো আমি বাজাই কি না আচ্ছা এই সব বাদ দে র বল স্যার এর নাম কি??
রিতুঃ আবির রহমান,,লন্ডন থেকে পড়াশোনা শেষ করে আজকে দেশে ফিরেছে র আজকে অফিসে আসছে..শুনেছি অনেক রাগী নাকি..আমি তো খুশি
তিথিঃ তুই এতো খুশি কেন??
রিতুঃ কারণ স্যার তোর ১২ টা বাজাবে
তিথিঃ দেখা যাবে কে কার ১২ টা বাজায় স্যার আমাকে এখনো চিনে না..আমি যে কি জিনিস
রিতুঃ তুই তো এলিয়েন
তিথিঃ চুপ কর শাঁতচুন্নি
রাফিঃ আচ্ছা চুপ কর…এখন স্যার আসার সময় হয়ে গেছে..
রিতুঃ আচ্ছা আয় তোরা আমি যাই
তিথিঃ আমার কাছে তো ফুল নাই আমি কি ভাবে যাবো
রাফিঃ তিথি তুই আমার টা নে..আমি র একটা আনছি
তিথিঃ ওকে
রিতুঃ আচ্ছা কই ছিলি
তিথিঃ পরে বলবো
পিওনঃ স্যার চলে আসছে
সবাই স্যার এর সাগতম জানায়..রিতু স্যার এর হাতে ফুল দিয়ে বলে।
রিতুঃ welcome sir
তিথি দূরে এসে স্যার এর সামনে দাঁড়িয়ে তাকে কিছু বলতে যাবে তার আগে শকড হয়ে যায় তিথির মুখ দিয়ে কথা বের হচ্ছে না..অনেক টক ভয়ে র সাহস করে বলে
তিথিঃ welcome স্যার
আবিরের হাতে ফুল দিয়ে..
তিথিঃ হায় আল্লাহ আমার কপালে এখন কি হবে এই টা তো ওই বজ্জাত ছেলেটা আল্লাহ দড়ি ফালাও আমি এই বজ্জাত কে তুলি দিতাম

Leave a Comment

Please wait...

Subscribe to Our Newsletter

Want to be notified when our article is published? Enter your email address and name below to be the first to know.